মুক্তির আন্দোলনে ভবিষ্যতেও সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে : আসিফ মাহমুদ
মুক্তির আন্দোলনে ভবিষ্যতেও সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে : আসিফ মাহমুদ
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি :
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী দিনের বাংলাদেশে মানুষের মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে চরমোনাই মাহফিল-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পীর সাহেব হুজুর ও চরমোনাই দরবার প্রায় এক শতাধিক বছর ধরে ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং মানুষের আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ছোটবেলা থেকেই এই মাহফিলের কথা শুনে আসলেও এবারই প্রথম তিনি চরমোনাইয়ে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই মাহফিলে অংশ নিতে এসেছেন। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও মানুষ আত্মশুদ্ধির জন্য একত্রিত হয়েছেন, যা ইসলামের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুনে এসেছেন, এই মাহফিলে যারা আসেন তারা এক ধরনের মানুষ হয়ে আসেন, কিন্তু ফিরে যান ভিন্ন এক ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার এসে তিনি সেই বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেছেন।
আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে ইসলামের পথে আরও অগ্রসর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শুধু ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতিতেও ইসলামী আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশের মানুষের মুক্তি ও শান্তির জন্য জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আন্দোলনের সময় যখন ছাত্রসমাজ রাজপথে ছিল, তখন প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে নেমে আসে। তাদের এই অবদান দেশ ও জাতির জন্য চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তার অনেক সহযোদ্ধা আহত ও শহীদ হয়েছেন। তিনি নিজে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পেরেছেন, যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ যারা সে সময় পাশে দাঁড়িয়েছিল তাদের সহায়তার ফলেই সম্ভব হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে দেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলনে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা যোবায়ের হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স